খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক ও রাজনীতিবিদ মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম-এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি পিরোজপুর জেলার কাউখালী থানার শিয়ালকাঠি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮৭ সালের ১ অক্টোবর মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।
বাংলাদেশসহ সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইসলামী জীবন-ব্যবস্থা কায়েমের সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান এবং লেখনীর মাধ্যমে ইসলামকে কালজয়ী জীবনদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৩৮ সালে শর্ষীনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম, ১৯৪০ সালে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাযিল এবং ১৯৪২ সালে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কুরআন ও হাদিস বিষয়ে উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত থাকেন।
১৯৪৬ সাল থেকে তিনি ইসলামী জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় হন এবং দীর্ঘ চার দশক ধরে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলা ভাষায় ইসলামী জ্ঞানচর্চায় তিনি পথিকৃত ছিলেন। তার রচিত ও অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২০টিরও বেশি। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— কালেমা তাইয়েবা, ইসলামী রাজনীতির ভূমিকা, মহাসত্যের সন্ধানে, ইসলামের অর্থনীতি, সূদমুক্ত অর্থনীতি, রাসূলুল্লাহর বিপ্লবী দাওয়াত, ইসলামী শরীয়তের উৎস, ইসলামে জিহাদ ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি মওলানা মওদূদী-এর তাফহীমুল কুরআন, আল্লামা ইউসুফ আল-কারযাভীর ইসলামের যাকাত বিধান ও ইসলামে হালাল-হারামের বিধান, মুহাম্মদ কুতুবের বিংশ শতাব্দীর জাহিলিয়াত এবং ইমাম আবু বকর আল-জাসসাসের ঐতিহাসিক আহকামুল কুরআন বাংলায় অনুবাদ করেন।
তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের গবেষণা প্রকল্পের সদস্য ছিলেন এবং ওআইসি’র ফিকহ একাডেমিরও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মক্কা, কুয়ালালামপুর, করাচি, কলম্বো ও তেহরানে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে।
মাওলানা আবদুর রহীম-এর অবদান শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।







