ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগরের কালিকাপুর সাব জেল থেকে ছয়জন বন্দি পালিয়ে গেছেন। বুধবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
কারাগার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া ছয়জনের একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং বাকি পাঁচজন বিচারাধীন মামলার আসামি। ঘটনায় আহত হয়েছেন কারারক্ষী বেদু মিয়া, বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কীভাবে পালাল বন্দিরা?
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে এক বন্দি গামছা জাতীয় কাপড় দিয়ে কারারক্ষীর গলা চেপে ধরে। এরপর আরও কয়েকজন বন্দি এসে তাকে পিটিয়ে ফেলে এবং কারাগারের মূল ফটক খুলে দেয়। এভাবে একে একে ছয়জন বন্দি পালিয়ে যায়।
পলাতক বন্দিদের পরিচয়
কারা কর্তৃপক্ষ যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে পলাতক ছয়জন হলেন—
১. নাজিম উদ্দিন (চুরি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার আসামি)
২. রহিম আলী (বিএনএস ৩৩১/৩০৯ ধারার আসামি)
৩. সুনীল দেববর্মা (খুনসহ গুরুতর মামলার আসামি)
৪. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত (বাংলাদেশি নাগরিক, জাল কাগজপত্র মামলার আসামি)
৫. রোজান আলী (বিএনএস ৩৩১/৩০৯ ধারার আসামি)
৬. আব্দুল পাট্টা (মাদক মামলার আসামি)
একজন ধরা পড়েছে, বাকি পাঁচজন এখনো পলাতক
ঘটনার পরপরই পুলিশ, বিএসএফ এবং আশপাশের সব থানাকে সতর্ক করা হয়। অভিযান চালিয়ে আসামের নিলামবাজারের বাসিন্দা আব্দুল পাট্টাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি রাজ্য ছেড়ে পালাতে গাড়ি ভাড়া করেছিলেন। তবে বাকি পাঁচ বন্দি এখনো পলাতক।
ধর্মনগরের মহকুমা শাসক ও সাব জেলের সুপার দেবযানী চৌধুরী জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। এসডিপিও ধর্মনগর ও নর্থের এসপিও পৃথক তদন্ত চালাচ্ছেন। সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

