চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ফলাফল কারচুপির অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় তারা নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবি জানায়।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ফলাফল কারচুপির পাঁয়তারা চলছে। আমরা বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য পেয়েছি। তাই শাহবাগে আমরা প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য প্রশাসন ও সরকার-সমর্থিত সংগঠনগুলো পরিকল্পিতভাবে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
এর আগে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল অংশ নেয়—২৩২টি পদে প্রার্থী ছিলেন ৯০৮ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটার ছিলেন ২৭ হাজার ৫১৮ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি এবং হল সংসদের ১৪টি পদে ভোট হয় ব্যালট পেপারে, যা গণনা করা হচ্ছে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে।
ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও, ফলাফল ঘোষণার আগেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রদল ও বাম ছাত্র সংগঠনের কিছু প্রার্থী ও কর্মী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা রক্ষায় অনুষদের ডিনদের রিটার্নিং অফিসার এবং বিভাগের সভাপতিদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শহর থেকে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার সুবিধায় শাটল ট্রেন ও বাসের অতিরিক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফলাফল গণনা চলমান থাকলেও শাহবাগে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।







