কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুলতান আহমেদ শান্তর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে সুলতানের সঙ্গে তার পরিচয় হয় দুই বছর আগে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে ল্যাপটপ ও খাতা ফেরত নেওয়ার জন্য তিনি সুলতানের ছাত্রাবাসে গেলে সেখানে কৌশলে তাকে বেডরুমে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করা হয়। তিনি জানান, প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে কান্নাকাটি করলে অভিযুক্ত ল্যাপটপ ফেরত দেয় এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখায়।
ধর্ষণের ঘটনায় মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রথমে ভয় পেয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন তিনি। পরে সুলতানের পরিবারের কাছে অভিযোগ জানালে তার মা ‘পুত্রবধূ’ পরিচয়ে এক চিকিৎসকের কাছে তাকে চিকিৎসা করান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও সমাধান না পেয়ে শেষে তিনি থানায় মামলা করেন।
মামলার পর সুলতান দুই মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। এরপরও ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ভুক্তভোগীর দাবি, সুলতান বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় নতুন হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তদন্ত সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে। তিনি বলেন, “তদন্ত শেষ হয়েছে। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।”
অভিযুক্ত ছাত্র সুলতান আহমেদ শান্ত অভিযোগ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।







