সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার ও দীর্ঘ লাইন থাকলেও বিপাকীয় এক সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। তেল সংগ্রহের জন্য সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অকটেন ও পেট্রোল নেওয়া হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে একদিকে পাম্পে তেলের সংকট চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য রাখতে না পেরে বিপাকে পড়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বর্তমানে বিপিসির ডিপোগুলোতে অকটেন রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন জাহাজ আসায় মজুত উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই ‘অতিরিক্ত মজুত’ সামাল দিতেই গত ১০ দিন আগে দেশীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলো থেকে তেল সরবরাহ না নিতে চিঠি দিয়েছে বিপিসি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই ব্যবস্থাপনাকে ‘ভুলনীতি’ ও পরিকল্পনার অভাব হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যেখানে দেশের চাহিদার ৭৫ শতাংশ তেল স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জোগান দেয়, সেখানে পাম্পে মানুষকে ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়া সাপ্লাই চেইনের বড় ধরনের ব্যর্থতা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, যেখানে মজুত উপচে পড়ছে বলা হচ্ছে, সেখানে মানুষের দুর্ভোগ কমার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার উল্টো।
এদিকে, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি-সহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিপিসি তেল না নেওয়ায় তাদের ট্যাংকগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে এবং উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে বিপিসি বলছে, কেরোসিনের ট্যাংকগুলো সময়মতো অকটেন রাখার উপযোগী করতে না পারায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে ডিজেল নিয়ে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে; যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় চলতি মাসে পর্যাপ্ত ডিজেল দেশে আসছে, যা মজুত সংকট কাটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।







