২০২৩ সাল থেকে চলমান যুদ্ধ ইসরায়েলের অর্থনীতিতে বিপর্যয় নামিয়ে এনেছে। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে দেশটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ থেকে ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু রিজার্ভ সেনাদের বেতন ও সুবিধার জন্যই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, কারণ যুদ্ধের শুরু থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি রিজার্ভ সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ব্যয়ের ফলে ইসরায়েলের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৬–৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১–২ শতাংশে, ফলে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সরকারে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিরোধ দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী অর্থবছর—অর্থাৎ ২০২৫–২৬ সালের জন্য ৩১ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বাজেট দাবি করেছে, যা গাজা অভিযানের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের নেতৃত্বাধীন অর্থ মন্ত্রণালয় যুদ্ধ ব্যয় সীমিত রেখে ২৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে দেশের ঋণমান (credit rating) নেমে না যায়।
এই বাজেট সংকট সামাল দিতে সরকার সামাজিক খাতের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করছে, যা জনঅসন্তোষ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত সহায়তা দিয়েছে, যা যুদ্ধের কিছু খরচ সামাল দিতে সহায়ক হয়েছে। তবে ইসরায়েল ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতি আগামী ১০ বছরে ৪০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুতর সংকেত।







