কুখ্যাত মার্কিন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে নির্মিত রহস্যময় নীল-সাদা ভবনটির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কেটেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ নথি ও ই-মেইল থেকে জানা গেছে, এপস্টেইন ওই ভবনটিকে একটি ‘মসজিদ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এই লক্ষে তিনি ইসলামের পবিত্রতম স্থান মক্কার কাবার গিলাফ ও কিসওয়াসহ অত্যন্ত দুর্লভ ও পবিত্র নিদর্শন গোপনীয়তার সঙ্গে সংগ্রহ করেছিলেন।
ক্যারিবিয়ান সাগরের লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে অবস্থিত সোনালি গম্বুজওয়ালা কিউব আকৃতির এই ভবনটি সরকারি নথিতে ‘মিউজিক রুম’ হিসেবে উল্লেখ করা থাকলেও, এপস্টেইন ব্যক্তিগতভাবে এটিকে তাঁর ‘মসজিদ’ বলে ডাকতেন। তাঁর এই তথাকথিত মসজিদে মক্কার কাবার ভেতরের দুর্লভ গিলাফ এবং বাইরের কালো কিসওয়া সংরক্ষিত ছিল। পবিত্র এই নিদর্শনগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলতেন এবং মেঝের গালিচা হিসেবে ব্যবহার করতেন।
২০১৭ সালের ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতা কাজে লাগিয়ে এপস্টেইন কাবার তিনটি অমূল্য নিদর্শন সংগ্রহ করেছিলেন। কাবার গিলাফ ও কিসওয়া সংগ্রহে সৌদি প্রতিনিধি আজিজা আল আহমাদি তাঁকে সহায়তা করেন। এমনকি নরওয়েজীয় এক কূটনীতিকের মাধ্যমে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন এবং মুসলিম দেশগুলোর জন্য ‘শরিয়াহ’ নামে নতুন মুদ্রার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এপস্টেইনের এই মসজিদের স্থাপত্যশৈলীও ছিল অদ্ভুত। তিনি উজবেকিস্তান থেকে টাইলস আনিয়েছিলেন এবং সিরিয়ার ১৫শ শতাব্দীর একটি প্রাচীন স্নানাগারের আদলে সোনালি গম্বুজ তৈরি করেছিলেন। তবে তাঁর অহংকারের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল তখন, যখন তিনি শিল্পীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্যালিগ্রাফিতে ‘আল্লাহ’ শব্দের বদলে তাঁর নিজের নামের আদ্যক্ষর ‘J’ ও ‘E’ খোদাই করতে। যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।
২০১৯ সালে জেলখানায় এপস্টেইনের আত্মহত্যার পর তাঁর এই অন্ধকার জগত নিয়ে অনেক জল্পনা শুরু হয়। যদিও হারিকেন মারিয়ার কবলে পড়ে দ্বীপের সেই ভবনের অনেক কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবে কাবার সেই পবিত্র নিদর্শনগুলো পরে উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ক্ষমতা জাহির করতে এপস্টেইন পবিত্রতম ধর্মীয় প্রতীকগুলোকেও ব্যক্তিগত বিলাসিতার খেলনা হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করেননি।







