আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ইতোমধ্যেই মাঠে সক্রিয় হয়েছে। দলটি এখন বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগে কাজ করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক দল যারা নির্বাচনি জোটে আসতে আগ্রহী, তাদের সবাইকে আমরা বৃহৎ জোটের আওতায় আনব।”
দলীয় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জোটের পরিধি বাড়াতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলো ছাড়াও উদার গণতান্ত্রিক, বাম, ইসলামপন্থি ও আলেম সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সর্বজনীন জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে দলটি। এ লক্ষ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের সঙ্গে ইতোমধ্যেই আলোচনা চলছে।
বিএনপির এই বৃহৎ জোটে গণতন্ত্র মঞ্চ (জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ১২-দলীয় জোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, চারদলীয় বাম ঐক্য, গণফোরাম, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি) ও লেবার পার্টি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া এনসিপি, গণঅধিকার পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও বিএনপির যোগাযোগ চলছে।
এ ছাড়া দলের নেতারা দেশের প্রভাবশালী আলেম সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পাশে পেতে চান। এজন্য তারা সম্প্রতি হাটহাজারী মাদরাসা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির, ছারছীনা পীর এবং বিভিন্ন আলিয়া মাদরাসা ধারার আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী নভেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন। তার আগেই সম্ভাব্য জোটগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি আনতে চান নেতারা। তারেক রহমান দেশে ফিরলে এসব দলের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন এবং তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
তবে রাজনীতিতে আরও একটি সমীকরণ আলোচনায় রয়েছে। তরুণ নেতৃত্বের দল এনসিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দলের মধ্যেও নতুন জোট গঠনের কথা শোনা যাচ্ছে। সূত্র বলছে, এই জোট গঠিত হলে তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এলায়েন্স করতে পারে, অথবা আলাদা জোট থেকে থেকেই আসন সমঝোতা করতে পারে।
এনসিপির দুই কেন্দ্রীয় নেতা জানান, তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি—এককভাবে না কি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিভিন্ন দলের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “জোট গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে মাত্র। দেখা যাক, কীভাবে এটি এগোয়। আমরা শুরু থেকেই বিএনপির সঙ্গে আছি।”
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “আমরা বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করতে চাই। পাশাপাশি গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গেও আমাদের আলাপ চলছে। সবার সঙ্গেই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”
১২-দলীয় জোটের প্রধান জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এর মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, “আমরা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম, আগামীতেও নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেব।”
অন্যদিকে গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, “বিএনপির নেতৃত্বে যে নির্বাচনি জোট গঠনের উদ্যোগ চলছে, আমরা তাতে আছি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও ইতোমধ্যেই আমরা জমা দিয়েছি।”







