মধুপুরী হাফেজের ছেলে আবু আম্মার আব্দুল্লাহ এক ফেসবুক পোস্টে খতমে নবুয়ত সম্মেলনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত–জমিয়ত বিরোধ নিয়ে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেছেন।
তিনি লিখেছেন, জামায়াত ও জমিয়ত দীর্ঘদিন ২০ দলীয় জোটে একসাথে কাজ করেছে—তখন জামায়াত নিয়ে কোনো আপত্তি ছিল না, কিন্তু এখন হঠাৎ জামায়াতকে ‘হারাম’ বলা হচ্ছে—এর কারণ জানতে চান তিনি। তার অভিযোগ, যেভাবে জমিয়তের নেতাদের দাওয়াত দিয়ে সম্মেলনে আনা হয়েছে, একইভাবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো দলীয় রাজনৈতিক আয়োজন নয়, তাই এখানে ব্যক্তিগত ক্ষোভ দেখানোর সুযোগও নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আল্লামা ওবায়দুল্লা ফারুককে দাওয়াতি অতিথি হিসেবে উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ বলেন, পুরো সুন্দর আয়োজনের মাঝেই তিনি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলেন। পীরসাহেব মধুপুর হুজুরের অনুরোধে জামায়াতের সেক্রেটারি বক্তব্যে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার প্রসঙ্গ তুললেও ওবায়দুল্লা ফারুক এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বারবার আপত্তি জানাতে থাকেন। এতে অনুষ্ঠানের পরিবেশ কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে আয়োজকদের বাধায় তিনি আসনে ফিরে যান, হলেও জমিয়তের অনেক নেতা এ ঘটনায় বিরক্ত হন।
আব্দুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন—আব্বাসী, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন কাদিয়ানী বিরোধী বক্তারা বক্তব্য দিতে পারলে দাওয়াতি অতিথি হিসেবে জামায়াতের প্রতিনিধি কেন বক্তব্য দেবেন না? তার মতে, দাওয়াতি অতিথি হলে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার থাকেই।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য চলাকালীন জমিয়তের মুরুব্বিদের উচিত ছিল একইভাবে তাকে চ্যালেঞ্জ করা, বিশেষ করে কাদিয়ানী বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করানো। কিন্তু তারা নীরব থাকায় সবাই আশ্চর্য হয়েছেন। তার মতে, জমিয়তের সেই মুরুব্বির উত্তেজনামূলক আচরণে পীরসাহেব মধুপুর ও হেফাজত আমীরও ক্ষুব্ধ হন, যেন মনে হচ্ছিল পুরো আয়োজনটি জমিয়তই পরিচালনা করছে।







