ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাত থেকে বোমারু বিমানের উড্ডয়নের শব্দ ও একের পর এক বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে। রাজধানীর দক্ষিণাংশে অবস্থিত ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফরচুনার কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি লুসিয়া নিউমান জানিয়েছেন, ফরচুনা ঘাঁটির ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় রাতভর এবং শনিবার ভোর পর্যন্ত ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ শুরুর পর থেকেই ফরচুনা ও সংলগ্ন এলাকাগুলো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
লুসিয়া নিউমান বলেন, ফরচুনা ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তবে এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে, আবার অনেকে ধারণা করছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সেনাবাহিনীর ভেতর থেকেই সরকারবিরোধী কর্মকর্তারা নাশকতা চালাচ্ছেন।
ঘটনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পেন্টাগনের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি প্রকাশ্যে বলেন, তিনি চান ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করুন।
২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকাল থেকেই ট্রাম্প মাদুরোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরও ভেনেজুয়েলার বিষয়ে তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং এই সময়ে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলখাতকে লক্ষ্য করে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং দেশটির ট্যাংকার জাহাজগুলোর ওপর কার্যত সর্বাত্মক অবরোধ জারি করেছে। গত ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার চারটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করে, যেগুলো তেল রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।







