কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিতে বলা হয়েছে, তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করলে শরীফ ওসমান হাদির মতো পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
জানা গেছে, গত ২৩ ডিসেম্বর অজ্ঞাতপরিচয়ে ডাকযোগে শাহজাহান চৌধুরীর ঠিকানায় একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে ‘ব্যাটালিয়ন ৭১’ নামে একটি গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ থাকলেও তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চিঠির সঙ্গে একটি সাদা কাফনের কাপড়ের টুকরো পাঠানো হয়, যা হুমকির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত না থেকে শাহজাহান চৌধুরীকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং দাবি করা হয়, তিনি ২৪ ঘণ্টা একটি তথাকথিত ‘কিলিং স্কোয়াডের’ নজরদারিতে রয়েছেন।
হুমকির বিষয়টি জানার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার–৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি তার খোঁজখবর নেন এবং এ ধরনের হুমকিকে গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান শাহজাহান চৌধুরীকে সাহস ও দৃঢ়তা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং দলীয়ভাবে সব সময় তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকির বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চিঠিটি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। তার এলাকায় সক্রিয় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে তিনি হুমকিতে ভীত নন বলে জানান। তিনি বলেন, হুমকি দিয়ে আমাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু তা কখনোই সফল হবে না। মানুষের মৃত্যু একবারই হয়—এ নিয়ে আমি চিন্তিত নই।
এদিকে ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামিম চৌধুরী জানান, হুমকির ঘটনায় শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষ থেকে উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ বলেন, জিডির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।







