ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য উঠে এসেছে গোপন অনুসন্ধানে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তাজুল ইসলাম চৌধুরী কলকাতার রাজারহাট এলাকার ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি, মেঠোপাড়া ঝনঝন গলির একটি চারতলা ভবনের প্রথম তলার এ-থ্রি ফ্ল্যাটে আত্মগোপনে ছিলেন। ওই ফ্ল্যাটে তার সঙ্গে আরও চার থেকে পাঁচজন আওয়ামী লীগের কর্মী অবস্থান করছিলেন, যাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে তাজুলকে না পেলেও ফ্ল্যাটে অবস্থানরত তার দলীয় কর্মীদের পাওয়া যায়। তারা জানান, তাজুল বর্তমানে ফ্ল্যাটে নেই এবং যোগাযোগের নম্বর দিলে তাকে ফোন করতে বলা হবে। তারা দাবি করেন, হাদি হত্যা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং তাজুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা।
এদিকে তাজুলের অবস্থান সম্পর্কে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তাকে ইতোমধ্যে ভারতের পুলিশ আটক করেছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় নারায়ণপুর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আটকের বিষয়টি স্বীকার করেননি।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ডিবির তদন্ত অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। সরাসরি গুলি করেন ফয়সাল করিম এবং তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। এই তিনজনই বর্তমানে ভারতে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তদন্তে নতুন কোনো সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।







