বিএনপির সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে নামলেও আসন সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুর। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি ওই আসনটি নুরকে ছেড়ে দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন তিনি।
আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিএনপি নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রয়োজনে দলীয় পদ ছাড়বেন বলেও জানান তিনি। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেন হাসান মামুন। পরদিন ২৯ ডিসেম্বর তিনি মনোনয়নপত্রও দাখিল করেন।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ৩০ ডিসেম্বর হাসান মামুনকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে বহিষ্কার হলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। বরং তার সঙ্গে রয়েছেন দুই উপজেলার প্রায় সব পদধারী বিএনপি নেতা। উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে নুরুল হক নুর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে। এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরকে নুর বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে যারা একসঙ্গে ছিলেন, বিএনপি তাদের জন্য মাত্র ১২টি আসন ছেড়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মিত্রদের ছেড়ে দেওয়া কোনো আসনেই স্থানীয় বিএনপির পূর্ণ সহযোগিতা নেই।
নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির প্রায় সব কমিটি একান্ত নিজস্ব লোকজন দিয়ে করেছেন হাসান মামুন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলের সিদ্ধান্তের চেয়ে হাসান মামুনের সিদ্ধান্তকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সে কারণেই কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারা তার পক্ষে কাজ করছেন না।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছেন। দুই উপজেলার বিএনপির সাবেক নেতারা তাকে সমর্থন দিলেও বর্তমান নেতৃত্ব বিরোধিতায় রয়েছে বলে জানান নুর। তার মতে, এই সমস্যার সমাধান বিএনপিকেই করতে হবে। অন্যথায় মিত্র দলগুলোর মধ্যে বিএনপির প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে রাজনৈতিক পথচলা জটিল হয়ে উঠবে।
নুরুল হক নুর জানান, নিজের অবস্থান থেকে সার্বিক পরিস্থিতি বিএনপিকে জানানো হয়েছে। এখন দলটি কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তিনি তাকিয়ে আছেন।







