ফেনী-৩ (দাগনভূঞা–সোনাগাজী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে অবৈধ ঘোষণার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের পক্ষে তার আইনজীবীরা আপিল আবেদন দাখিল করেন। এ আপিলে ফেনীর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হককেও বিবাদী করা হয়েছে।
ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া জানান, বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে, যা তিনি মনোনয়নপত্রের হলফনামায় গোপন করেছেন। হলফনামায় তিনি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করেছেন। তবে এর পক্ষে কোনো কার্যকর প্রমাণ তিনি দাখিল করেননি।
আপিল আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল আউয়াল মিন্টু মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত ৪ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডে গমন করেন এবং ১৫ ডিসেম্বর একই পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে ফেরেন। যদি তিনি ৯ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করে থাকেন, তাহলে ওই সময় মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না।
এছাড়া আপিলে অভিযোগ করা হয়, হলফনামায় আব্দুল আউয়াল মিন্টু তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার তথ্যও গোপন করেছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী এই ধরনের তথ্য গোপনের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলযোগ্য বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। ওইদিন ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল এবং তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি মার্কিন দূতাবাসে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনসংক্রান্ত তথ্য দাখিল করেছেন। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তাকে দ্বৈত নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না, সে কারণেই তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ফেনী-৩ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আবদুল মালেক এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের বেজমেন্ট-২ অডিটোরিয়ামে এ আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।







