ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও ব্র্যাকের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো ড. আসিফ শাহান জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক নির্বাচনী অগ্রগতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইংরেজিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশে জামায়াতের ভোটভিত্তি প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এটি বড় ধরনের নির্বাচনী চমকের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ড. আসিফ শাহান লেখেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন যে জামায়াতের ভোটের হার খুব বেশি বাড়েনি এবং তা ১৫ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও কম। তবে সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের সফর ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি মনে করছেন, বর্তমানে জামায়াতের ভোট প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি, এমনকি তার চেয়েও বেশি হতে পারে। তার মতে, জামায়াতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা যদি এখনো বাস্তবতা অস্বীকার করে কার্যকর কৌশল না নেয়, তাহলে দেশ একটি বড় নির্বাচনী চমকের দিকে এগোচ্ছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালজুড়ে জামায়াত খুব কৌশলীভাবে ‘মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি’ করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে তারা বিএনপির চাঁদাবাজি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়, আর জাতীয় পর্যায়ে সংস্কারভিত্তিক আলোচনায় বড় বিনিয়োগ করে। এতে করে বিএনপির মনোযোগ সংস্কার বিতর্কে আটকে পড়ে এবং মাঠপর্যায়ের সংগঠনে ঘাটতি তৈরি হয়। শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে বিএনপি যখন হিমশিম খাচ্ছিল, তখন জামায়াত নীরবে শক্তিশালী মাঠসংগঠন গড়ে তোলে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. আসিফ শাহানের মতে, এই পর্যায়ে এসে জামায়াতের কর্মীরা প্রায় সব ভোটারের কাছেই অন্তত একবার করে পৌঁছেছে। বিশেষভাবে নারীদের কাছে পৌঁছাতে তারা পরিচিত তালিম গ্রুপকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি একটি সহজ কিন্তু কার্যকর বার্তা ছড়ানো হয়েছে—ভোট দেওয়া ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ। ভোটারদের বলা হয়েছে, জামায়াতকে ভোট দিতেই হবে এমন নয়; তবে ইসলামপন্থী ও সৎ প্রার্থীকে ভোট না দিলে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কৌশলগত বার্তাটি ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত এবং ব্যাপক সাড়া পেয়েছে, কারণ এর বিপরীতে কার্যকর কোনো পাল্টা কৌশল দেখা যায়নি।
পোস্টের পরবর্তী অংশে তিনি বলেন, বিএনপির মূল শক্তি ছিল গ্রামাঞ্চলে, কিন্তু দলটি সেটি অবহেলা করেছে। বিপরীতে জামায়াত শহরের পাশাপাশি গ্রাম ও নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে ঘরে-ঘরে সংগঠিত প্রচার চালিয়েছে, ফলে গ্রামীণ এলাকায় তাদের শক্তি দ্রুত বাড়ছে। তারেক রহমান দেশে ফেরায় গ্রামে বিএনপি নতুন করে চাঙা হওয়ার সুযোগ পেলেও দলটি তা পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরং বিএনপি শহরমুখী প্রচারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, যেখানে ভোটারদের অবস্থান আগেই অনেকটা নির্ধারিত।
ড. আসিফ শাহান সতর্ক করে বলেন, বিএনপি যদি দ্রুত গ্রামে, বিশেষ করে নারীদের কাছে সংগঠিতভাবে পৌঁছাতে না পারে এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগভিত্তিক প্রচারে না নামে, তাহলে নির্বাচনের ফল তাদের প্রত্যাশার বিপরীত হতে পারে। একই সঙ্গে গণভোট ইস্যুতে পর্যাপ্ত সচেতনতা ও প্রচারের অভাবে সেখান থেকেও অপ্রত্যাশিত ফল আসার আশঙ্কার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।







