ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সড়ইবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলিম জানান, তুজারপুর ইউনিয়নের সড়ইবাড়ি গ্রামে হাবিবুর রহমান তালুকদার গ্রুপ ও কবির খান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে কবির খাঁ পক্ষের শহীদ খাঁকে রাস্তায় বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ঘটনার জেরে গত দুই দিনে দু’দফায় কবির খাঁ পক্ষের বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোর থেকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বহু মানুষ আহত হন। আহতদের কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন, কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই দিনে এক পক্ষের লোকজন অন্য পক্ষের ওপর হামলা ও বসতঘর ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শুরুতেই পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নিত না।
সংঘর্ষে জড়িত এক পক্ষের নেতৃত্বদানকারী কবির মাতুব্বর বলেন, তার পক্ষের লোকজনকে মারধর ও বসতঘরে হামলা চালানোর ঘটনার জের ধরেই এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, হাবিবুর রহমান তালুকদারকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তার পক্ষের শওকত হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের কারণেই প্রায়ই এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিনের সংঘর্ষেও দুই পক্ষের প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।







