জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের আপিল শুনানিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে আপিল শুনানি চলাকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবীদের ব্যাখ্যা চলার সময় দুপুরে কমিশন প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য শুনানি মুলতবি করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা আসন ত্যাগ করার পর মঞ্চের সামনে আপিলের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা আইনজীবীরা জড়ো হয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিরোধী পক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল সংক্রান্ত শুনানিতে অংশ নিতে তিনি ইসিতে উপস্থিত ছিলেন।
একই সময়ে অন্য একটি আপিল শুনানির জন্য অডিটোরিয়ামে থাকা কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী আবুল হাসনাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহ মিন্টুর বক্তব্যে আপত্তি জানান। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনজীবীরা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন এবং তার ছেলে তাবিথ আউয়াল হাসনাত আবদুল্লাহকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বিরতির পর শুনানি পুনরায় শুরু হলে হাসনাত আবদুল্লাহ কমিশনের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু তার প্রতি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং বলপ্রয়োগের চেষ্টা করেছেন।
এ ঘটনায় তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে রুলিং দাবি করেন। একই সময়ে এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জের একটি আসনের বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর সমর্থকরা আগের দিন শুক্রবার শুনানি শেষে নির্বাচন ভবনের সামনে তার মক্কেলকে মারধর করেছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আশা করি, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না। তিনি এ ধরনের ঘটনায় নির্বাচনি তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শও দেন।







