বগুড়া: দীর্ঘদিনের দাবির পর উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলা—বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও গাইবান্ধাকে নিয়ে নতুন বগুড়া বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন বৈষম্য দূর করা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সমন্বিত আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিভাগের অন্তর্ভুক্ত চার জেলার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা বগুড়াকে বিভাগ করার প্রস্তাবে সর্বসম্মত সমর্থন দিয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় সরকার এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও সহজ অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চার জেলা নিয়ে যদি সিলেট, বরিশাল বা ফরিদপুরের মতো বিভাগ থাকতে পারে, তাহলে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র বগুড়াও বিভাগ হওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা রাখে।”
তিনি জানান, বিষয়টি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
মেগা প্রকল্পের ঘোষণা
সভায় বগুড়ার যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কয়েকটি বড় প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু গাবতলী–সারিয়াকান্দি–মাদারগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
এছাড়া শহরের যানজট কমাতে রেললাইনের ওপর দিয়ে ওভারপাস এবং নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচলের সমন্বিত নকশা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এ প্রকল্পের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক উন্নয়ন
প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়ার থানাগুলোর জন্য অন্তত ২০টি নতুন পুলিশ যানবাহন সরবরাহের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি গাবতলী ও আদমদীঘির পাশাপাশি জেলার বাকি ১০টি থানাকেও মডেল থানা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডিএ) গঠনের খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে বগুড়া সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজও এগিয়ে চলছে।
সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান
পিছিয়ে থাকা বগুড়ার পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া ২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) সংশোধন করে নতুন ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। সংশোধিত বিধিমালা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জারি হতে পারে বলেও তিনি জানান। নতুন বিধিমালা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। এতে জেলার সংসদ সদস্য, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







