জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের কাজ করছে। দলীয় সূত্র জানায়, ইশতেহারে রাষ্ট্র, নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান—এই তিন স্তরে মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সূত্র মতে, ইশতেহারে আধিপত্যবাদ মোকাবিলা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুসংহত করা, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা জোরদার করা এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ ও বিকাশে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তির সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাধান যুক্ত করার রূপরেখা থাকবে।
এনসিপি সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি এহতেশাম হককে প্রধান ও ইশতিয়াক আকিবকে সেক্রেটারি করে ইশতেহারবিষয়ক একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। আট সদস্যের এ কমিটি স্বল্প সময়ের মধ্যে দলের নির্বাচনি ইশতেহারের খসড়া প্রস্তুতের কাজ করছে। তবে ইশতেহারটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দলটির একাধিক নেতা জানান, প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য—যেখানে মৌলিক অধিকার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। এ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত, সময়োপযোগী ও সমাধানকেন্দ্রিক ইশতেহার জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
সূত্র আরও জানায়, নির্বাচনি ইশতেহারে গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে এনসিপি ঘোষিত ২৪ দফা ইশতেহারের মধ্য থেকে আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জাতীয় বাজেটের সুষম বণ্টন, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা অর্জনে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপসহ সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকবে।
এছাড়া ইশতেহারে মন্ত্রী-এমপিসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের বিবরণ একটি পোর্টালে প্রকাশ ও নিয়মিত হালনাগাদের অঙ্গীকার, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়নে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি চালু, স্বল্প আয়ের মানুষের করমুক্ত সীমা বাড়ানো এবং উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে করহার বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইশতেহারে আরও থাকবে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ও এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা, কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় ডেটাবেস গঠন, জাতীয় ডিজিটাল সার্ভার স্থাপন এবং প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা।
জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক ড্রোন সংগ্রহ, গুম-খুনে জড়িত র্যাব বিলুপ্ত করা এবং বাহিনীগুলোর সংস্কারে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এনসিপির সমাবেশ থেকে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। সেই ঘোষিত ২৪ দফার আলোকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ইশতেহার প্রকাশ করবে এনসিপি।







