চীনের সঙ্গে বাংলাদেশে সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনের চুক্তিকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই উদ্যোগের আওতায় JY-300 শ্রেণির AWACS/AEW&C ড্রোন যুক্ত হলে বাংলাদেশের আকাশ নজরদারি, ফাইটার সাপোর্ট ও নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
JY-300 ড্রোনটি টানা প্রায় ১৫ ঘণ্টা উড্ডয়ন সক্ষমতা রাখে, যা ২৪ ঘণ্টা আকাশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সহায়ক। এতে ব্যবহৃত কনফরমাল AESA রাডার রোটোডোম ছাড়াই কার্যকর নজরদারি করতে পারে, ফলে এর রাডার সিগনেচার তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এই ড্রোনের মাধ্যমে ফাইটার জেট, ড্রোন ও নৌযান শনাক্ত করা সম্ভব এবং যুদ্ধবিমানকে থার্ড-পার্টি টার্গেটিং সাপোর্ট দেওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলিগুড়ি করিডর ও আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে JY-300 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরাসরি আঘাত না হেনেও এটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার এমিশন পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য ব্লাইন্ড সেক্টর শনাক্ত এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে সক্ষম। এতে করে আকস্মিক হুমকি আগেভাগেই শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকিতে রূপ দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
এয়ার কমব্যাটের ক্ষেত্রে JY-300-কে একটি ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিজস্ব রাডার সক্রিয় না করেই BVR (বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ) এনগেজমেন্টে সহায়তা, ফাইটার জেটের সারভাইভেবিলিটি বৃদ্ধি এবং তুলনামূলকভাবে ছোট এয়ার ফোর্সের জন্য কার্যকর কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে এই ড্রোন।
বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে এর দেশীয় উৎপাদন ও সংযোজনের বিষয়টি। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বলি ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে গোয়েন্দা, নজরদারি ও রিকনেসান্স (ISR) সক্ষমতায় স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যয় সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক আকাশযুদ্ধে আগে শত্রু শনাক্ত করতে পারাই সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই বাস্তবতায় JY-300 ড্রোনকে বাংলাদেশের স্মার্ট নজরদারি ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।







