বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ার পেছনে জালিয়াতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, জালিয়াতির কারণে বহু দেশ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও ভিসার ওপর আস্থা হারিয়েছে।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬–এর উদ্বোধন এবং ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’–এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের সব জিনিসই জাল—ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল। বহুদেশ আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে না। আমরা দেশটাকে জালিয়াতির কারখানায় পরিণত করেছি।” তিনি আরও বলেন, “জালিয়াতি করতে বুদ্ধি লাগে, ক্রিয়েটিভিটি লাগে। কিন্তু আমরা সেই বুদ্ধি খারাপ কাজে ব্যবহার করছি।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি জানতে পারেন—দীর্ঘদিন ধরে সে দেশ বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। “শ্রমিক হোক বা অন্য কোনো পেশার মানুষ—বাংলাদেশি কাউকেই তারা ঢুকতে দিচ্ছে না। এমন দেশের তালিকা দীর্ঘ,” বলেন তিনি।
ড. ইউনূস জানান, ওই মন্ত্রী তাঁকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন—অনেক বাংলাদেশি ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। “এক নারী ডাক্তারের সনদ নিয়ে এসেছেন, কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে সেটি ভুয়া। বাস্তবে তিনি গৃহকর্মীর কাজ করতে এসেছেন,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার সনদ, ব্যাংক সার্টিফিকেট, অনুমতিপত্র—সবই ভুয়া। ভয়ংকর বিষয় হলো, আমরা নিজেরাই এসব ভুয়া কাগজ ইস্যু করছি। এভাবে চললে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পথে এগোতে হলে আগে নিজেদের সংশোধন করতে হবে। “এই দেশ জালিয়াতির কারখানা হবে না। আমরা নিজ গুণে, সততার মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই,” বলেন তিনি।
এ সময় তিনি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মানুষের সহায়ক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।







