তুরস্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক নতুন মাইলফলক যোগ করে দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আসেলসান (ASELSAN) উন্মোচন করেছে অত্যাধুনিক ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র ব্যবস্থা “এজদারহা” (Ejderha), যার অর্থ “ড্রাগন”। এই সিস্টেমটি তুরস্কের বহুস্তরবিশিষ্ট জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো “স্টিল ডোম” (Steel Dome)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এজদারহা কোনো প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলাবারুদ ব্যবহার করে না। এর পরিবর্তে এটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তড়িৎ-চৌম্বকীয় শক্তি (Electromagnetic Energy) ব্যবহার করে, যা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিস্টেমটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে শক্তিশালী শক্তি তরঙ্গ নিক্ষেপ করে ড্রোন ও মানববিহীন আকাশযানের (UAV) সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক সার্কিট, নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিমেষেই অচল করে দিতে পারে। এর ফলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লক্ষ্যবস্তুটি কার্যকারিতা হারিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মঘাতী ড্রোন এবং ড্রোনের ঝাঁক (swarm) মোকাবিলায় এজদারহা অত্যন্ত কার্যকর। যেহেতু এর শক্তি তরঙ্গ আলোর গতিতে চলাচল করে, তাই দ্রুতগতির বা ছোট আকারের লক্ষ্যবস্তুর পক্ষে একে এড়িয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই সিস্টেমটি একই সময়ে কয়েকশ মিটার দূরত্বে অবস্থানরত একাধিক ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এজদারহা ইতোমধ্যে সীমিত পরিসরে ধারাবাহিক উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যেই এটি তুর্কি বাহিনীর বাস্তব ব্যবহারে আসার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন তুরস্ককে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বৈশ্বিকভাবে এক অনন্য এবং শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।







