শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন ঢাকা–১৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক। বৃহস্পতিবার নিজের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে চতুর্থ দিনের ‘জাগরণী পদযাত্রা’ চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, শেরপুরে জামায়াত কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে এবং কোনোভাবেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না।
এ সময় নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ বা অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার পরিচয়। এ ক্ষেত্রে বিএনপিরও দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা না নিয়ে বিএনপির নেতারা নারীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও অশালীন বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন আল্লামা মামুনুল হক। তার ভাষায়, প্রকাশ্যে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দেওয়া সভ্যতা ও শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেছে, আর এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রভাব মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে পড়ছে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধি সম্পর্কে অবগত নন। আচরণবিধিতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এবং তিনি সেই নিয়ম মেনেই বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। শুধু তিনি নন, অন্য প্রার্থীরাও একই কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড স্থাপন করতে পারবেন। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি একটি বিলবোর্ডও বেশি লাগিয়েছেন, তবে নিজ উদ্যোগে সব বিলবোর্ড অপসারণ করবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রকাশ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। অল্প এলাকাতেই তার প্রায় ২৬টি বিলবোর্ড দেখা গেছে এবং মোট সংখ্যা ৫০টিরও বেশি হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।







