শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, শেরপুরের অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করে যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের উসকানি ও সরাসরি নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির সশস্ত্র ক্যাডাররা আগে থেকেই জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে ওত পেতে ছিল। ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রশাসনের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে ধ্বংস করছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। বুধবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরের এই সংঘাত এড়ানো যেত কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি নির্দিষ্ট দল কেন অনুষ্ঠানস্থলের সব চেয়ার দখল করে রাখল এবং কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হলো। তিনি আরও জানান যে, এই সংঘর্ষে বিএনপিরও অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সচিব আরও জানান, আইনি জটিলতার কারণে ৮ ফেব্রুয়ারির পর আদালতের নির্দেশে কেউ প্রার্থিতা ফিরে পেলেও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে পোস্টাল ব্যালটে তাদের নাম বা প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে না। শেরপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।







