ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিরোধী দল দমনে অতি-উৎসাহী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণ ও নির্দেশনার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে ও বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে এই পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন তারা।

মধুসূদন দাস ছিলেন একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সেখান থেকে পুলিশে যোগ দেন। শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় দীর্ঘ সময় ডিএমপির গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা দায়িত্বে ছিলেন তিনি। লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে পল্টন, পুরান ঢাকা এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় দমনের অগ্রভাগে ছিলেন মধুসূদন। এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের (আইও) এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একটি প্রভাবশালী চক্রকে বিপুল অংকের ঘুষ দিয়ে ‘ক্লিয়ারেন্স’ সংগ্রহ করেছেন তিনি। ৫ আগস্টের পর অপরাধের কারণে তাকে ঢাকা থেকে সরিয়ে এপিবিএনে পাঠানো হলেও এখন তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেলেন।
মধুসূদনের মতো মুহাম্মদ সালমান ফার্সীর বিরুদ্ধেও জুলাই গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ততার একাধিক মামলা রয়েছে। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত থাকা এই কর্মকর্তা বিএনপির যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দমনে অত্যন্ত বেপরোয়া ছিলেন। মাঠপর্যায়ে সাধারণ কর্মীদের ওপর তার নিপীড়নের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি (অ্যাডমিন)-এর জ্ঞাতসারেই এই বিতর্কিত পদোন্নতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার কথা ছিল, তাদের পদোন্নতি দেওয়া শহীদের রক্তের সাথে চরম বেইমানি।
ইতিমধ্যেই এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) তদন্ত সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত পদোন্নতি বাতিল এবং অভিযুক্তদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।







