নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন পুলিশ লাইনস এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন যে, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তাদের মুখে এক কথা থাকলেও কাজে অন্য কিছু প্রকাশ পায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পীর সাহেব চরমোনাই দাবি করেন, জামায়াত নেতারা প্রকাশ্যে এক কথা বললেও গোপনে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বৈঠক হতেই পারে, কিন্তু সেগুলো কেন গোপনে করতে হবে? আমেরিকার দূতাবাস কিংবা ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের এই গোপন বৈঠকের পেছনে গভীর কোনো রহস্য বা উদ্দেশ্য লুকায়িত আছে যা দেশের সাধারণ মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে যে তাদের নীতি ও আদর্শের মধ্যে গরমিল রয়েছে।
বিগত দিনের রাজনীতির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট অতীতে ক্ষমতায় থাকাকালীন জনগণের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং প্রত্যাশা পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তারা পুনরায় ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন বা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে তিনি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, এদেশের মানুষ বারবার আর বিভ্রান্ত হবে না এবং অতীতের ব্যর্থদের ওপর আস্থা রাখবে না।
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে চরমোনাই পীর বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই পরিবর্তনের পর দেশ নতুনভাবে গঠিত হবে যেখানে ইসলাম শক্তিশালী হবে এবং মানবতা রক্ষা পাবে। এই উদ্দেশ্যেই তিনি ইসলামের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু নেতৃত্বের লড়াই এবং নীতিগত মতবিরোধের কারণে সেই সমঝোতা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, একশ্রেণির ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী ইসলামের বিধানের পরিবর্তে প্রচলিত আইনেই দেশ চালাতে চায়, যা ইনসাফ কায়েমের পথে প্রধান বাধা।
তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে প্রচলিত যে নিয়মে দেশ পরিচালিত হয়েছে তাতে কখনোই সাধারণ মানুষের ইনসাফ নিশ্চিত হয়নি। তাই একই নিয়মে নতুন করে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া জনগণের সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ফাঁদে না পড়ে ভোটারদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা প্রকৃতপক্ষে দেশ ও ইসলামকে ভালোবাসেন, তাদের এখন আর চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই। দেশ ও জাতির প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী ছাইফুল্লাহ প্রধান, নরসিংদী-৩ আসনের ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া এবং নরসিংদী-৫ আসনের প্রার্থী বদরুজ্জামানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা সকলেই আগামীর সুন্দর ও ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।







