ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কিশোরদের কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্ট সমালোচনার মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েও তা থেকে সরে এসেছেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। গত ২৮ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে পদত্যাগের কথা জানালেও, বর্তমানে তিনি সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় তিনি জানান যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনুরোধ এবং কিছু অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার তাগিদে তিনি পদে বহাল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম ও কেন্দ্রীয় মাঠে লাঠি হাতে একদল কিশোরকে কান ধরে ওঠবস করানোর দুটি ভিডিও পর পর দুই দিন ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে সর্বমিত্র চাকমাকে উগ্র ভঙ্গিতে কিশোরদের শাস্তি দিতে দেখা যায়, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ সচেতন মহলে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ছাত্রদল ও বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডাকসু থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি তোলেন।
বহিষ্কারের দাবির প্রেক্ষিতে সর্বমিত্র চাকমা অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা ডাকসুর সভাপতি তথা উপাচার্য যদি বহিষ্কারের কোনো চিঠি দিতে পারেন, তবে তিনি তা মেনে নেবেন। এ সময় নিজের আগের দেওয়া পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে আবেগতাড়িত হিসেবে ইঙ্গিত করে তিনি পুনরায় দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তবে ডাকসুর গঠনতন্ত্রে পদত্যাগের কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা আছে কি না, সে বিষয়ে তার স্বচ্ছ কোনো ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ১২-এর ‘খ’ ধারায় পদত্যাগ বা পদ শূন্য হওয়া সংক্রান্ত নিয়মাবলি উল্লেখ থাকলেও সর্বমিত্রের এই ইউ-টার্ন নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়ী হওয়া এই নেতা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার আলোচনায় এসেছেন।
সর্বশেষ এই শাস্তির ঘটনা এবং পদত্যাগ নিয়ে নাটকীয়তা ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে। ছাত্রনেতাদের মতে, ডাকসুর মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফিরে আসা তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।







