নির্বাচনী ময়দানে নারী ভোটারদের উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নারীদের যে স্বতঃস্ফূর্ত গণজোয়ার তৈরি হয়েছে তা নস্যাৎ করতে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও স্থানীয়দের দাবি, গুজব ছড়িয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করার মাধ্যমে পর্দানশীন মা-বোনদের হেনস্তা ও হামলার একটি নীল নকশা তৈরি করেছেন তিনি। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো—নিজেদের লোক দিয়ে কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এর দায় জামায়াতের ওপর চাপানো।
অভিযোগ উঠেছে, মির্জা আব্বাস নিজেই বিপুল পরিমাণ বোরকা কিনে রেখেছেন যা দিয়ে তার অনুসারী পুরুষ বা ভাড়াটে ক্যাডারদের ছদ্মবেশ ধারণ করানো হবে। এই ছদ্মবেশী পুরুষদের ভোটকেন্দ্রে পাঠিয়ে পরবর্তীতে বিএনপির আরেকটি গ্রুপ দিয়ে তাদের বোরকা খোলার নাটক সাজানো হবে। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে যে, জামায়াত পুরুষদের বোরকা পরিয়ে ভোট দিতে পাঠাচ্ছে। এই অজুহাতে সাধারণ পর্দানশীন নারী ভোটারদের তল্লাশির নামে হয়রানি করা হবে, যাতে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ভোটকেন্দ্রে আসতে নিরুৎসাহিত হন।
ঢাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, এই কৌশল মির্জা আব্বাসের জন্য নতুন কিছু নয়। অতীতেও তিনি পুরুষকে নারী সাজিয়ে জাল ভোট দেওয়া এবং গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করার মতো অনৈতিক পন্থার আশ্রয় নিয়েছেন বলে কুখ্যাতি রয়েছে। রেলের পিয়নের ছেলে হিসেবে পরিচিত এই নেতার নিজের সেই পুরনো অভিজ্ঞতাই এখন নতুন করে প্রতিপক্ষের ওপর সন্দেহ হিসেবে উগড়ে দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৌশলী এই প্রপাগান্ডার অংশ হিসেবে আরও একটি পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে কিছু পুরুষকে বোরকা পরিয়ে জামায়াতের নারী মিছিলে পেছন থেকে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। পরে সুপরিকল্পিতভাবে তাদের বোরকা টেনে খুলে ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। মূলত জামায়াতের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এবং পর্দানশীন নারীদের জনসম্মুখে অপদস্থ করার একটি হীন রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই একে দেখা হচ্ছে।
এ ধরনের উসকানিমূলক পরিকল্পনা ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টার ফলে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ভোটাররা মনে করছেন, শান্তিপূর্ণ ভোটদানের পরিবেশ নষ্ট করতেই এই নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।







