নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যদি কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। রোববার সকালে বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সব কার্যক্রম খোলামেলাভাবে পরিচালনা করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে নির্বাচনের প্রতিটি কাজ মিডিয়ার মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পরিষ্কার থাকে এবং কোনো ধরনের লুকোছাপা না করা হয়। নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন যে কোনো ছাড় দেবে না, তা তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন।
সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, একজন নাগরিক হিসেবে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কেবল ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কিন্তু যখন কেউ পেশাদারিত্ব নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন, তখন তাকে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে হবে। তার মতে, নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো ছোট বা বড় দল এবং হেভিওয়েট বা লাইটওয়েট প্রার্থী বলে আলাদা কিছু নেই। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রার্থীকে সমানভাবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেন তিনি।
নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পুনরায় সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্দেশনার পরেও যদি কেউ পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কমিশন তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে দৃঢ় থাকতে হবে যাতে কেউ অনৈতিক সুযোগ নিতে না পারে। তবে শুধু বল প্রয়োগ নয়, বরং পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপন্থা অবলম্বনের পরামর্শও দেন তিনি। সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







