আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ একাধিক জেলার বাসিন্দারা এই ভূকম্পন টের পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অ্যান্ড্রয়েড অ্যালার্ট সিস্টেম ও গুগলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অনুভূত এই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৯। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের ম্রাউক-ইউ শহর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে। রাতের এই কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে তীব্র আতঙ্কে অনেক মানুষকে ঘর ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
এর আগে একই দিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটেও দেশজুড়ে ৪.১ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, ভোরের ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হওয়া সেই কম্পন সাতক্ষীরা ছাড়াও খুলনা ও যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মৃদুভাবে অনুভূত হয়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
একই দিনে ভোরে এবং রাতে—পর পর দুবার ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের কম্পনটি বেশি সময় স্থায়ী ও শক্তিশালী হওয়ায় উঁচু ভবনের বাসিন্দারা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রায়ই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ভবন নির্মাণে সতর্কতা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।







