বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার সরকারকে তখন সেনাসমর্থিত বলেই ধরা হতো। আর গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারকে তিনি বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সমর্থিত সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই সময় যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন, বর্তমানে সেই সুযোগ না থাকায় তাদের মধ্যে অস্থিরতা ও অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে।
রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে কিছু ব্যক্তি যখন খুশি প্রধান উপদেষ্টা বা সচিবদের কক্ষে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। এখন সেই অনিয়মের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরোধী শিবিরের নেতারা সংসদসহ বিভিন্ন স্থানে অস্থির আচরণ করছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন রাজীব হাসান। তিনি বলেন, সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সূত্রে সর্বোচ্চ ১,৪০০ জনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা কীভাবে ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে ১,২০০ শহীদের বাড়ি পরিদর্শনের দাবি করেন—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিষয়টিকে তিনি ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা এবং ‘শহীদ বাণিজ্য’ হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঘিরে যেমন নানা ধরনের অপব্যবহার হয়েছে, তেমনি জুলাই বিপ্লবকেও কেন্দ্র করে নতুন কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এই প্রজন্ম মেনে নেবে না। সব শহীদের প্রকৃত সংখ্যা ও তাদের রাজনৈতিক পরিচয় দ্রুত জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।







