ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের ভোটারদের রাজনৈতিক ভাবনা ও অগ্রাধিকার নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণা জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মধ্যে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে জামায়াতে ইসলামী। একই প্রশ্নে বিএনপিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম বলে মত দিয়েছেন ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ সদর আসনের ভোটারদের চিন্তা-ভাবনা’ শীর্ষক গবেষণার উপাত্ত উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল রিসার্চ ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. জে এ এম সকিলউর রহমান।
তিনি জানান, গবেষণার আওতায় রাজশাহী-২ আসনের ৩০টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটার তালিকা অনুসারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপে স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপে মোট ৮৮৯ জন ভোটার অংশ নেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ভোটার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকবে। এ বিষয়ে নেতিবাচক মত দিয়েছেন ১১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন ২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার। আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার, ভোট দিতে অনিচ্ছুক ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং সিদ্ধান্তহীন ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা।
এ দাবি সমর্থন করেন না ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার।
রাজনৈতিক দলভিত্তিক সমর্থনের চিত্রে দেখা যায়, বিএনপিকে সমর্থন করেন ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীকে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ, অন্যান্য দলকে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এখনও সিদ্ধান্তহীন।
এ ছাড়া ভোটারদের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে জরিপে উঠে এসেছে—দুর্নীতি প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ, কর্মসংস্থানকে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ, শিক্ষাকে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং অন্যান্য বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ন্যাশনাল রিসার্চ ফোরামের সদস্য স্বপন কুমার রায় জানান, এটি একটি স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর থেকে জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং গবেষণাটি এখনও চলমান। আজ উপস্থাপিত তথ্য গবেষণার একটি অংশ; নির্বাচন শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
এ সময় ন্যাশনাল রিসার্চ ফোরামের সদস্য ডা. নাজীব ওয়াদুদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গবেষক উপস্থিত ছিলেন।







