পটুয়াখালীর বাউফলে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের এক বিশাল জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাউফল উপজেলা পাবলিক মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে দেশবাসী কেবল দুর্নীতি, চাঁদাবাজি আর বিচারহীনতা দেখেছে। সেই কলঙ্কিত অধ্যায় মুছে ফেলে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি নতুন ভোরের উদয় হবে, যেখানে জনগণের অধিকারই হবে শেষ কথা।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা হলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই আইনের অধীনে থাকবেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজে অন্যায় করলেও তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি ব্যাংক লুটপাট, শেয়ারবাজার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র এবং বিদেশে অর্থ পাচারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যয় করা হবে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এবারের গণভোট হবে স্বাধীনতার প্রকৃত সনদ। তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে আজাদীর প্রতীক এবং ‘না’ ভোটকে গোলামির প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যারা অতীতে নিজেদের সততা প্রমাণ করতে পারেনি, তাদের ভোট চাওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। জামায়াতে ইসলামী মামলা বাণিজ্যের রাজনীতি ঘৃণা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনসভার শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের হাতে প্রতীকীভাবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি জেলার অন্য তিনটি আসনের প্রার্থীদেরও পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েমসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই বাউফলের অলিগলি ও জনসভাস্থল মানুষের ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে, যা নির্বাচনী আমেজকে আরও তুঙ্গে নিয়ে গেছে।







