আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত জোয়ার ঠেকাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। যদি নির্বাচনে কারচুপি বা দখলদারির মাধ্যমে জনরায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের চান্দকরা সেকান্দর আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সারাদেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার যেকোনো চেষ্টা শক্ত হাতে দমন করা হবে। সন্ত্রাসীদের হাত থাকলে শান্তিকামী মানুষেরও হাত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কেউ যদি কেন্দ্র দখল করতে আসে, তবে জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের হাত চুরমার করে দেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের মূল লক্ষ্য।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডা. তাহের বলেন, দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে ১১-দলীয় জোট, যার নেতৃত্বে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি আহমেদ ও জুলাই বিপ্লবের বীরেরা। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ। তিনি দাবি করেন, এই ১১-দলীয় জোটই দেশের অধিকাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই জোটই সরকার গঠন করবে।
নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ কি ৫৬ বছরের পুরনো অন্ধকারের দিকে ফিরে যাবে, নাকি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাবে? তার মতে, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি নির্ধারিত হবে আগামী ভোটের দিন। তিনি আরও বলেন, যারা আগে সংস্কারের প্রশ্নে ‘না’ ভোট দিতে চেয়েছিল, তারা এখন জনগণের চাপে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে ডা. তাহের বলেন, একসময় যারা ইসলামের উত্থান নিয়ে সমালোচনা করত, তারা এখন আল্লাহ ও রাসুলের আদর্শে দেশ চালানোর কথা বলছে। অথচ তাদের শাসনামলে দেশ তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাদের হাত টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিতে অভ্যস্ত, তাদের পক্ষে কি আদৌ দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব?
শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মু. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমির মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।







