বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এক নতুন বাঁকে দাঁড়িয়েছে।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের ‘সোনালী অধ্যায়’ স্পষ্ট চাপে পড়েছে। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। এর বিপরীতে, নতুন বাংলাদেশ চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পথে হাঁটছে বলে এএফপির এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবেই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও শেখ হাসিনার আমলে দিল্লির গুরুত্ব ছিল সবকিছুর ওপরে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স’-এর সিনিয়র ফেলো জশুয়া কার্লান্টজিক বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ও পরবর্তী সরকার কৌশলগত কারণেই এখন চীনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ঘিরে বেইজিংয়ের আঞ্চলিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশ এখন কেন্দ্রীয় অবস্থানে।
কৌশলগত এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ হলো সম্প্রতি চীনের সঙ্গে সই হওয়া নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চীনের ‘সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল’-এর মধ্যে একটি ড্রোন (UAV) উৎপাদন কারখানা স্থাপনের চুক্তি সই হয়েছে। বগুড়ায় প্রস্তাবিত বিমানঘাঁটির পাশে এই কারখানা স্থাপন করা হবে, যা সরাসরি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সীমান্ত সংলগ্ন।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের পক্ষ থেকে নানা উদ্বেগ জানানো হলেও ঢাকা তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, পরবর্তী সরকার অস্থিতিশীলতার বদলে স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিলেও চীনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখবে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানেই দিল্লির সঙ্গে স্থায়ী বৈরিতা নয়; বরং এটি হবে ঢাকার পক্ষ থেকে ভারসাম্য রক্ষার এক নতুন ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।







