বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান ভারতের রাজধানী দিল্লি গিয়েছিলেন পর্তুগালের ভিসা নিতে। সেখানে তার সঙ্গে এক নারী ছিলেন, যিনি তার আত্মীয়—এমন তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে দিল্লি থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছান। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার অভিযোগ, ভারতে গিয়ে তিনি হেনস্তার শিকার হন।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেস-এ একটি বেসরকারি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে প্রথম তাকে দেখা যায়। তার পাশে এক নারীও বসেছিলেন। তারা দুজনই পর্তুগালের ভিসার আবেদন করতে গিয়েছিলেন।
পর্তুগালের ভিসা পেতে বাংলাদেশের নাগরিকদের দিল্লিতে আবেদন করতে হয়, এজন্য ভারতীয় ভিসা প্রয়োজন। জানা গেছে, মাহদী হাসানকে ভারতীয় দূতাবাস ভিসা প্রদান করেছিল।
তিনি ও তার সঙ্গে থাকা নারী নয়াদিল্লি রেলস্টেশনের কাছে পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। ভিসা কেন্দ্রে অপেক্ষার সময় কেউ তার ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি পর্তুগাল নয়, অন্য একটি দেশের ভিসার আবেদন করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মাহদী হাসানকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ভারত ও বাংলাদেশ থেকে তার কাছে একের পর এক অজানা নম্বর থেকে ফোন আসতে থাকে। এতে তিনি সন্দেহ করেন যে কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে।
আরেকটি সূত্র জানায়, ভিসা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি পুরোনো দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় যান। পরে বাংলাদেশ থেকে পরিচিত কেউ তাকে জানান যে তিনি চিহ্নিত হয়ে গেছেন। এরপর দিল্লির কয়েকটি স্থানে আশ্রয় খুঁজলেও কেউ তাকে থাকতে রাজি হয়নি।
বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলা দুটি সূত্রের একজন জানান, মাহদী হাসান দিল্লি থেকে ভিসা নিয়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার সঙ্গে থাকা নারী তার এক আত্মীয় ছিলেন।







