রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা।
তাদের অভিযোগ, প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এতে মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য শাহবাগ থানায় যান। তারা আগের রাতে থানার ভেতরে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের ১২ জন চিহ্নিত নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান।
তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ওসির দেখা মেলেনি। এমনকি থানার অন্য কর্মকর্তারাও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
অভিযোগপত্রটি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম গ্রহণ করেন। তিনি জানান, ওসি এসে মামলার কার্যক্রম শুরু করবেন। কিন্তু রাত বাড়লেও ওসির উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়ায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘ সময় ধরে থানায় অবস্থান করছি, কিন্তু মামলা গ্রহণে কোনো অগ্রগতি নেই। ডিসির বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে, পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। হামলার শিকার হয়েও আমরা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “একদিকে আমাদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে, অন্যদিকে মামলা নিতে এমন গড়িমসি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি অবজ্ঞা এবং আইনের প্রতি চরম অসম্মান। এতে মনে হচ্ছে প্রশাসন হামলাকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।”
সাংবাদিকদের মতে, পুলিশের এমন আচরণ ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। পরদিন মামলা করতে গিয়ে কোনো তাৎক্ষণিক অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।







