২০১৪ সালে রাজধানীর গ্রিনরোডের নিজ বাড়িতে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১০ বছর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তাঁর ছেলে মাওলানা ফুয়াদ আল ফারুকী। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা জড়িত ছিল।
ফুয়াদ আল ফারুকীর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হজ নিয়ে আলোচনার অযুহাতে প্রায় ১৪-১৫ জন লোক মাওলানা ফারুকীর বাসায় প্রবেশ করে। রুমে ঢুকেই তারা পিস্তল ও চাপাতি দিয়ে মাওলানা ফারুকীকে জিম্মি করে ফেলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের বেঁধে রাখে। ভেতরে থাকা মাওলানা ফারুকীর স্ত্রী পরিচয় জানতে চাইলে ঘাতকরা সরাসরি বলে, “আমরা আওয়ামী লীগ করি, পুলিশ ধাওয়া দেওয়ায় এখানে আশ্রয় নিয়েছি।”
ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘাতকরা ড্রয়িং রুমে মাওলানা ফারুকীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। এক পর্যায়ে মাওলানা ফারুকী তাদের উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তারা বলে, “যা করতে এসেছি তা করে চলে যাব, তুই শেষ দোয়া-কালাম পড়ে নে।” এরপর পাগড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাঁকে জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মাত্র ৩০০-৪০০ গজ দূরে একটি মিটিংয়ে ছিলেন।
মাওলানা ফুয়াদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় দীর্ঘ ১০ বছর তারা সত্য বলতে পারেননি। এমনকি সাংবাদিকরাও তাঁদের এই তথ্য প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিলেন এই বলে যে, আওয়ামী লীগের নাম নিলে তাঁরা বিচার পাবেন না। লুটপাটের নাটক সাজিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ঘাতকদের মূল লক্ষ্য ছিল কেবল এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা।
মাওলানা ফারুকীর ছেলের মতে, তৎকালীন বহুল আলোচিত সাগর-রুনি হত্যা মামলা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই মূলত তাঁর বাবাকে হত্যার মাধ্যমে নতুন ইস্যু তৈরি করেছিল তৎকালীন সরকার। তিনি এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার এবং বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে কেসটি পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।







