চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে নির্বাচন-পরবর্তী রেষারেষির জের ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় হাফিজুর রহমান (২৫) নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত হাফিজুর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ছোট ভাই। রবিবার (১ মার্চ) রাত ১টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে জামায়াত আমির মফিজুর রহমান ও তাঁর ভাই হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছিল।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নিরপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকন দাবি করেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসানের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলার জের ধরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে তিনি এই ধরনের সংঘাতকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহতের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।







