ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ১টার দিকে ছাত্রদলের বহিরাগত সশস্ত্র কর্মীদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। হল দখলের উদ্দেশ্যে চালানো এই হামলায় অন্তত ৬ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা থেকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের কর্মীরা দফায় দফায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের রুমে ঢুকে বর্বরোচিত হামলা চালায় এবং তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার পর ছাত্রদল তাদের ব্যবহৃত রড, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রগুলো শিবিরের কর্মীদের রুমে ঢুকিয়ে রেখেছে যাতে দোষ চাপানো যায়। অথচ এর আগে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লাইভ চেকিংয়ে ওই রুমগুলোতে কোনো অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।
আক্রান্তদের মধ্যে শান্ত সরকার নামে এক হিন্দু শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রদলের সশস্ত্র কর্মীরা তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ছুরিকাঘাত করে এর দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল হামলাকারীরা। আহত শিক্ষার্থীদের দাবি, ৫ই আগস্টের আগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থাকা কর্মীরাই এখন ছাত্রদলের ব্যানারে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
বর্তমানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হলের বাইরে অবস্থান করছেন এবং ছাত্রদলের বহিরাগত কর্মীরা হলের ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।







