নরসিংদীর রায়পুরায় ২৬ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তদের হামলায় বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আমির হোসেন নিহত হন। বাঁশগাড়ী থেকে নৌকায় করে পার্শ্ববর্তী চরমধুয়া গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে যাওয়ার পথে একদল দুর্বৃত্ত অন্য একটি নৌকায় তুলে নিয়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা মহানগর ও নরসিংদীতে পৃথক ঘটনায় আরও পাঁচজন নিহত হন। নরসিংদীর মাধবদীর দাড়িকান্দি গ্রামে আমেনা আক্তার নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের অপরাধতথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৫ দিনে দেশে অন্তত ৪০ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন নারী। খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেশি, তুলনামূলক কম বরিশাল ও রংপুরে। নিহতদের মধ্যে বিএনপির তিন কর্মী, যুবদলের এক নেতা, ছাত্রদলের এক কর্মী এবং জামায়াতের এক সমর্থক রয়েছেন। ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন আটজন, গুলিতে তিনজন। এছাড়া গণপিটুনি, শ্বাসরোধ, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও সংঘর্ষে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছেন সাতজন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ১১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার, প্রতিপক্ষের হামলা, রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও পূর্বশত্রুতাসহ বিভিন্ন কারণে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনার দিঘলিয়ায় যুবদল নেতা মো. মুরাদ খাঁকে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। তিনি সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা নগরের খানজাহান আলী থানার আফিলগেট এলাকায় একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে ব্যবসায়ী শেখ সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি মাছের ঘের ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
চট্টগ্রামে গত দুই সপ্তাহে আটটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অনলাইন জুয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, ডাকাত দলের হামলা, পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক সহিংসতাসহ নানা কারণে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আবদুল মজিদকে মুখোশধারী সশস্ত্র যুবকেরা গুলি করে হত্যা করে। বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে এখন পর্যন্ত ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১৫টি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে। এ সময় শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
ঢাকা বিভাগ ও মহানগরে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। প্রেমঘটিত বিরোধ, সন্ত্রাসী হামলা, মাদক ব্যবসা, জমি বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও অজ্ঞাত কারণে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর হাজারীবাগ থানার সামনে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শাহরিয়ার শারমিনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সিয়াম হোসেন ওরফে ইমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকা থেকে ছয় বছরের শিশু তাহেদী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ওবায়দুল্লাহ নামে এক যুবককে হত্যার পর তার মরদেহ কয়েক টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
এদিকে রাজশাহী বিভাগে ছয়জন, রংপুরে চারজন এবং বরিশাল বিভাগে দুইজন নিহত হয়েছেন। রাজশাহীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ওয়াজ মাহফিল নিয়ে বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। রংপুরে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ, গণপিটুনি ও অজ্ঞাত কারণে চারজন নিহত হন। বরিশালের পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতাকর্মীদের মারধরে ইদ্রিস খান নামে একজন নিহত হয়েছেন।







