নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী একটি বালুর ঘাটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংঘটিত এই সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও র্যাব-১১ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁচপুর ল্যান্ডিং সংলগ্ন বালুর ঘাটটির ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ভাই রাসেল মাহমুদ নতুন করে ইজারা নেন। বুধবার সকালে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা তাকে ঘাটের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রাসেল মাহমুদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কাজ করার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের অনুসারী ডালিম, তুষার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং জহিরুল হক, নূর হোসেন ও নজরুলসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে রিপন সরকারের অনুসারী রাজু নামে একজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ অবৈধভাবে ঘাট দখল করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টাকা তুলছিল। এখন বৈধ ইজারাদার প্রতিনিধি নিয়ে ঘাট বুঝে নিতে গেলে তারা হামলা চালায়।
অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, বালুর ঘাট নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







