মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। ট্রাম্প এই যুদ্ধে দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমশ একটি “এসকেলেশন ট্র্যাপ” বা উত্তেজনার ফাঁদে রূপ নিচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, “এসকেলেশন ট্র্যাপ” এমন একটি অবস্থা যেখানে শক্তিশালী পক্ষ তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েই চলে, যদিও তার বিপরীতে কৌশলগত অর্জন বা বিশেষ কোনো লাভ পাওয়া যায় না। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, শুল্ক আরোপ বা রাজনৈতিক বিতর্কের মতো যুদ্ধকে সহজে থামানো বা উল্টে দেওয়া সম্ভব নয়। ইরান চাইলে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলো বন্ধ করে দিয়ে বা ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। ফলে যুদ্ধের ফলাফল এখন আর পুরোপুরি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে নেই।
বর্তমানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও, ট্রাম্পের জন্য কোনো “বিশ্বাসযোগ্য বিজয়” ঘোষণা করার মতো সহজ কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধের ময়দানে আধিপত্য থাকলেও ইরানকে পুরোপুরি দমানো বা কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভেতরের খবর অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা এখন এই যুদ্ধ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে বা “বায়ার্স রিমোর্স” (সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা) ভোগ করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, স্থলসেনা না পাঠিয়ে শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে পরিকল্পনা ট্রাম্প করেছিলেন, তাতে তিনি নিজের সক্ষমতাকে অনেক বড় করে দেখেছিলেন। কর্মকর্তাদের মতে, ইরান আক্রমণ করার সিদ্ধান্তটি একটি বড় ভুল হয়ে থাকতে পারে।







