বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এখন থেকে আর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের হয়ে কাজ করবে না। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, বোর্ড সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
গভর্নর বলেন, একসময় ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম সেরা ব্যাংক ছিল, কিন্তু মাঝামাঝি সময়ে এর করপোরেট সুশাসনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যাংকটি একটি বিশেষ দলের প্রতি অনুগত হয়ে পড়লেও এখন থেকে ব্যাংকটিকে পুরোপুরি পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। ব্যাংকটিকে সঠিক পথে ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহায়তা দেবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকের সমান্তরালে এস আলম গ্রুপের ঋণের ভয়াবহ চিত্রও সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এস আলম গ্রুপ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ৯৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা পাচারের তথ্যও মিলেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ নিজের প্রভাবে বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে এসব ঋণ গ্রহণ করেছেন। ঋণের একটি বড় অংশই নেওয়া হয়েছে ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে নানা সংকটের মাঝেও গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায়িক কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটির মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং এবং প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) আহরণেও ব্যাংকটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত এক বছরে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা প্রবাসী আয় এসেছে এই ব্যাংকের মাধ্যমে।
খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রেও কিছুটা উন্নতির দাবি করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা (মোট ঋণের ৫৮%), যা ডিসেম্বর শেষে ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকায় (৪৭%) নেমে এসেছে। ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা বর্তমানে ৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে, যা গত এক বছরে প্রায় ৫০ লাখ বেড়েছে।







