জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সহায়ক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনকে প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও ভিসি ভবনের সামনে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কর্মচারী মো. নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, ছাত্রদল নেতা জাফর আহমেদ তাঁকে গালিগালাজ করতে করতে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে শহীদ মিনারের সামনে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে তাঁকে এমনভাবে আঘাত করা হয় যে চেয়ারটি ভেঙে যায়। নিজাম উদ্দিনের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের দোসর—এমন অভিযোগ তুলে তাঁকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জকসুর এজিএস মাসুদ রানা জানান, ভিসি ভবন থেকে তিনি নিজ চোখে ছাত্রদল নেতা জাফরকে ওই কর্মচারীকে মারধর করতে দেখেছেন। পরে প্রক্টর অফিসের সামনেও ব্যাপক হইচই এবং ভিসি ভবনের ভেতরে জোরপূর্বক একজনকে ঢুকিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে দেখা যায়। ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বিষয়টিকে তাঁদের ‘নিজেদের সমস্যা’ বলে এড়িয়ে যান।
সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো শিক্ষার্থীর হাতে কর্মচারীর এভাবে মার খাওয়ার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এমন ঘটনায় কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় খুললে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা জাফর আহমেদ মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই কর্মচারী আগে তাঁদের মিছিলে হামলা করেছিলেন। সেই পুরোনো ক্ষোভ থেকে ভিসি দপ্তরে যাওয়ার সময় কেবল কথা কাটাকাটি ও সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস।







