ইসরায়েলের হাইফা শহরে অবস্থিত দেশটির অন্যতম প্রধান এবং বৃহত্তম তেল পরিশোধনাগার ‘বাজান’ (Bazan)-এ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে চালানো এই শক্তিশালী হামলার ফলে পরিশোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের ৬৪তম দফার এই অভিযানে হাইফা ও রিশন লেজিয়ন এলাকার তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই হামলায় ‘কদর’, ‘ইমাদ’ এবং ‘খোররামশাহর’-এর মতো মাল্টি-ওয়ারহেড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
হাইফা তেল শোধনাগারটি ইসরায়েলের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এর সক্ষমতা দেখলেই বোঝা যায়। এটি ইসরায়েলের মাত্র দুটি শোধনাগারের মধ্যে বৃহত্তম এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনা। এই শোধনাগারটি প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধন করে, যা দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে।
পরিশোধনাগারটিতে আঘাত হানার ফলে ইসরায়েলের পরিবহন, বিমান চলাচল এবং বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তথ্যমতে, দেশটির প্রয়োজনীয় ডিজেলের ৬০ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের ৫০ শতাংশই আসে এই হাইফা শোধনাগার থেকে। ফলে এই স্থাপনাটি অকেজো হয়ে পড়া মানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামা।
হামলার পরপরই হাইফা শহরের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্রায়ত শহরতলীসহ বিশাল এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। দুটি মাত্র শোধনাগারের একটিতে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় দেশটির অর্থনীতি ও যুদ্ধকালীন রসদ সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।







