গণভোটের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দলের গোড়াপত্তন হয়েছিল, সেই বিএনপি এখন গণভোটের জনরায় মানতে টালবাহানা শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে আয়োজিত এই গণভোটের মূল লক্ষ্য ছিল সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া জিয়ার শাসনকাজের বৈধতা নিশ্চিত করা। মূলত তাঁর গৃহীত নীতি ও কর্মসূচির প্রতি জনগণের আস্থা যাচাই করতেই এই ভোটের আয়োজন করা হয়।

১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে এই গণভোটের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন সরাসরি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি মজবুত করতে। সেই সময়কার ঐতিহাসিক নথিপত্র ও সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ৩০ মে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সারা দেশে ভোটগ্রহণ চলে।
তৎকালীন সময়ে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৮৪ লাখ এবং ভোটগ্রহণের জন্য সারা দেশে ২১ হাজার ৬৮৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ। সংগৃহীত ভোটের মধ্যে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্রপতি জিয়ার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দিয়েছিলেন, বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছিল মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ। এই বিপুল জনসমর্থনের মধ্য দিয়েই জিয়াউর রহমানের শাসনকাল একটি শক্তিশালী আইনি ও নৈতিক ভিত্তি পায়।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট যখন ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণভোটের দাবি তুলছে, তখন বিএনপির অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নিজের জন্মের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে দলটির বর্তমান নেতৃত্বের অনীহা বা আইনি জটিলতার অজুহাতকে অনেকেই রাজনৈতিক বৈপরীত্য হিসেবে দেখছেন। মিত্র দলগুলোর অভিযোগ, যে প্রক্রিয়ায় বিএনপির জন্ম, এখন সেই গণভোটের মাধ্যমেই জনরায় নিতে দলটি গড়িমসি করছে।







