আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে জ্বালানি আমদানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সংগ্রহের বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (২০ মার্চ) এই তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত গ্রীষ্মকালীন বাড়তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা সামাল দিতেই এই জরুরি তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই ঋণের বড় একটি অংশ অর্থাৎ ১৩০ কোটি ডলার আসবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায়। বাকি ৭০ কোটি ডলার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে পাওয়ার আশা করছে সরকার। আগামী জুনের মধ্যেই এই বিশাল অংকের অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ঋণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে এডিবির সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং সেখান থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া আইএমএফ থেকেও কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তুলনামূলক কম সুদের হার নিশ্চিত করতে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে। উপদেষ্টা জানান, এই তহবিল পাওয়া গেলে জ্বালানি আমদানিতে কোনো ধরণের সংকটের আশঙ্কা থাকবে না। সরকারিভাবে এই ঋণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ে এর তৎপরতা অব্যাহত আছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বহুপক্ষীয় এই সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ পাওয়া গেলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি একই সাথে ডলারের বাজারে চাপ কমাবে এবং গ্রীষ্মকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতকে সচল রাখতে সহায়তা করবে।







