ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার দিনে খুনিদের সঙ্গে ‘নেহারি’ খেয়ে বিজয় উদযাপনের মতো গুরুতর বিতর্কের মধ্যেই সদ্য কারামুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এই ফোন পেয়ে আনিস আলমগীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
হাদি হত্যার মতো একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় খুনিদের সঙ্গে আনিস আলমগীরের সেই ‘নেহারি খাওয়া’র বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো তীব্র সমালোচনা চলছে। নেটিজেনদের অনেকেই এই ঘটনাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ এবং ‘খুনিদের প্রকাশ্যে মদদ দেওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমন এক বিতর্কিত ভাবমূর্তির মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই ফোনালাপ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার কথা জানিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, “আমি খুব সারপ্রাইজড। তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং আমার কারাগারে থাকার কথা শুনেছেন।” একই দিনে তিনি বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
গত ১৪ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট ও নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়। এই মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং গত ১৪ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান।
সাংবাদিক আনিস আলমগীর টেলিভিশন টকশো এবং ফেসবুকে তার বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্টের কারণে সবসময়ই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। তবে হাদি হত্যার দিনে আনন্দ উদযাপনের বিষয়টি তার পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপকে অনেকে রাজনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখলেও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ রয়েই গেছে।







