গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের দ্বিমুখী অবস্থানের সমালোচনা করেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ঈদের জামাতে অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান। নামাজ শেষে তিনি বলেন, “জনগণের কাছে আমরা যখন গিয়েছি, তখন দুটি ভোট চেয়েছি—একটি গণভোটের জন্য এবং অন্যটি সংসদ নির্বাচনের জন্য। জনগণ দুটি ভোটই দিয়েছে। এখন সংসদ নির্বাচন হালাল হলে গণভোট হারাম হবে কেন?”
বিরোধীদলীয় নেতা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একটি ভোট যদি বৈধ হয়, তবে অন্যটি অবৈধ হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি মনে করেন, সরকারি দল যত দ্রুত এই সত্যটি অনুধাবন করবে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট তত দ্রুত নিরসন হবে। যারা এখনো এই সহজ সমীকরণ বুঝতে পারছেন না, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো জাতির সামনে গণভোটকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন যদি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বিরোধিতা করা হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা চাই জনতার সর্বোচ্চ রায়কে সবাই সম্মান করুক। যদি তা না হয়, তবে যে ৭০ ভাগ মানুষ এই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, তাদের সাথে নিয়ে আমরা এই দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের মানুষের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সকলকে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। ঈদের এই দিনে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।







